 01-26-2008, 03:26 AM |
 | Moderator | | Join Date: Mar 2006 Location: Bolzano, Italy Posts: 1,360 Thanks: 2,252 Thanked 2,346 Times in 139 Posts Rep Power: 68 UL: 271.71 gb DL: 74.02 gb Ratio: 3.67 | |
| Re: Media Gossip  ৪২০ নাটকটির কাহিনীর সূত্রপাত হয়েছিল কিসলু ও মন্টু নামের দুইজন ভাসমান বাটপারকে নিয়ে। গ্রামের আর দশজন পরিচিত মানুষের কাছে যেখানে তাদের পরিচয় ছিল ছিঁচকে চোর হিসেবে সেখানে তারাই শহরে এসে হয়ে ওঠে ভিন্ন এক গল্পের নায়ক। একটি রাজনৈতিক দলের মামুলি কর্মী হিসেবে শহুরে জীবন শুরু করা কিসলু এবং মন্টু ক্ষমতাসীন দলের লেজ ধরে দ্রুততার সাথেই নিজেদেরকে নিয়ে যেতে থাকে ক্ষমতার কেন্দ্রে। নানান ছল-চাতুরী এবং সাহসের পরিচয় দিয়ে। একসময় উপরে ওঠার সিঁড়িটাও পেয়ে যায় কিসলু ও মন্টু। কচুরিপানা থেকে তারা হয়ে যায় বটবৃক্ষ। আর এভাবেই কিসলু, মন্টু ও তাদের পারিপার্শ্বিক বহু চরিত্রের বিবর্তনের গল্প নিয়ে এগিয়ে যায় ধারাবাহিক নাটক ৪২০ । ছোটপর্দার আলোচিত ও দর্শক নন্দিত এই নাটকটি ইতোমধ্যেই পার করেছে ১১টি পর্ব। আর নাটকটির বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে যারা তাদের চরিত্রগুলোকে নিয়ে যেতে সম হয়েছেন দর্শকপ্রিয়তার কাতারে তাদের মধ্যে আছেন লুৎফর রহমান জর্জ, মোশাররফ করিম, নুসরাত ইমরোজ তিশা, সোহেল খান, মারজুক রাসেল, নাফিজা জাহান মিষ্টি, নাদের চৌধুরী, ডিকন নুর, কামাল হোসেন বাবর, রিফাত চৌধুরী, রাশেদা চৌধুরী, মাহাবুবুল ইসলাম রাসেল, মেহেদী আশরাফ, খালিদ রকিব, আহসান কবির, সুমন, তমাল প্রমুখ। ছোটপর্দার যারা রুটিন দর্শক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর কাজের সাথে তাদের সখ্যতাটাও বহুদিনের। আর এ সূত্রে ফারুকী ও তার ভাই-বেরাদরদের নির্মাণ বৈচিত্রের সাথেও পরিচয় রয়েছে অধিকাংশ দর্শকের। তবে এতোদিন যারা ফারুকীর ধারাবাহিক হিসেবে মনের কোনে ঠাঁই দিয়েছিলেন ৫১বর্তী আর ৬৯ এর মতো ফ্যামিলি ড্রামাকে তারা কি ঘুণারেও আঁচ করতে পেরেছিলেন যে নিজের তৃতীয় ধারাবাহিকে এসেই কাজের ধারাকে আমুল পাল্টে দেবেন ফারুকী? তবে দর্শকদের সাথে এই বাজী খেলায় আপাতত গ্রহণযোগ্যতার জয়মাল্য ৪২০র গলাতেই। ফারুকীর ভাষ্যে এর অনুরণনটা আমরা লক্ষ করি এভাবে- ৫১বর্তী এবং ৬৯ এর পর ফ্যামিলি ড্রামার প্রতি আমার একধরণের ক্লান্তি চলে আসে। বলা চলে যে এই কান্তিটা কাটাতেই ৪২০র ধারণাটা আমার মাথায় আসে। প্রথম অবস্থায় জীবন এবং পরে ফাহমিকে আমি এই নাটকের ধারণাটা নিয়ে কাজ করতে বলেছিলাম। পরে নানা কারণে আমি নিজেই স্ক্রিপ্ট রাইটিং শুরু করি। ইতোমধ্যেই নাটকটির জন্য আমি ভাল সাড়া পেয়েছি। আজকের দিনের ব্যস্ত দর্শকেরা ছোটপর্দার খুব কমসংখ্যক কাজ নিয়েই ঘরের বাইরে আলোচনা করেন। সে হিসেবে আমার সৌভাগ্য যে এখন ৪২০ নিয়ে মানুষ আলোচনা করছে। তাছাড়া আমার আগের দুটি ধারাবাহিকে যেভাবে নাটকের কাহিনী একবার জমেছে আবার খানিকটা ঝুলে গেছে ৪২০র ক্ষেত্রে আমার বিশ্বাস তেমনটি হয়নি। বিশেষ করে ১১ পর্বের পর থেকে এই নাটকটির যে কাহিনী বিন্যাস তাতে করে দর্শকদের জন্য নাটকটি থেকে চোখ ফেরানো বেশ কষ্টকর হবে বলেই আমি মনে করি। অন্যদিকে গল্পের প্লট সম্পর্কে ফারুকী বলেন, লোক ঠকিয়ে বা প্রতারণা করে কচুরীপানা থেকে বটগাছ হবার যে বাস্তবতা সেই বাস্তবতাটিকেই আমি তুলে ধরতে চেয়েছিলাম আমার নাটকে। এখন নানা ভাবেই হয়তো প্রতারণা করে বড়লোক হওয়া যায়। তবে আমার মাথায় মূলত ব্যবসা এবং রাজনীতির বিষয় দুটিই ছিল। আবার রাজনীতিতে যেভাবে কিছু লোক বিনা পুঁজিতে সহজে বড়লোক হয়েছে বা হচ্ছে সেটা দেখানো আমার কাছে অনেক বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে বলেই আমি আমার নাটকের গল্পটিকে এই ধারায় ঢুকিয়ে দিয়েছি। এখন রাজনীতিক মাত্রই খারাপ মানুষ আমি কিন্তু তা বলতে চাইছি না। কারণ রাজনীতি যদি না থাকতো তাহলে আমাদের স্বাধীনতা আসতো না। আমাদের যা কিছু গণতান্ত্রিক তাও এই রাজনীতির হাত ধরেই এসেছে। কাজেই সকল অপকর্মের জন্যই শুধু নয়,বরং সকল ভাল কর্মের জন্য রাজনীতিকে তার প্রাপ্যটুকু দিতে হবে। এ কারণে আমি কিন্তু আমার নাটকের টাইটেলেই বলে দিয়েছি যে এ নাটকটির উৎসর্গ পঞ্চাশের দশক থেকে আজ অবদি আমাদের দেশে রাজনীতি করা নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিকেরা। কাজেই ঢালাওভাবে সব রাজনীতিকরাই খারাপ এমনটা বলা কিন্তু ৪২০র উদ্দেশ্য নয়। আমি একজন সন্ত্রাসীর মৃত্যুতেও বিষাদের বাঁশি বাজিয়েছি। কারণ আমি দেখাতে চেয়েছি যে রাজনীতিবিদ কিংবা সন্ত্রাসী যারই মৃত্যু হোক না কেন, প্রতিটি মৃত্যুই কিন্তু সমান দুঃখজনক। অর্থাৎ একজন ভিলেন কিংবা খারাপ লোক সে মারা গেলেই হাততালি এমনটা কিন্তু ৪২০তে দেখানো হয়নি। তবে আমি যেহেতু আমাদের রাজনীতির অন্ধকার অংশটিকে পুঁজি করে বড় হওয়া দুজন খারাপ লোকের গল্প দেখিয়েছি তাই রাজনীতির ভালটা সেভাবে উঠে আসেনি। কারণ যাদের নিয়ে এই নাটকের গল্প তাদের জীবন নিয়েই তো আমাকে এগুতে হবে। ভাল লোক নিয়ে কাজ করলে আমি হয়তো ভালটাই দেখাতাম। অন্যদিকে নাটকের মাঝে যারা সমাজ বদল কিংবা জীবনবোধের বার্তা খুঁজে বেড়ান তাদের উদ্দেশ্যে ৪২০র বার্তাটাও আর দশটা নাটকের মতো নয়। ফারুকীর মতে যেহেতু এটা কোনো মোটিভেশনাল ভিডিও নয়, তাই এখানে ভাত খাইবার পূর্বে হাত ধুইয়া লইবেন-জাতীয় কোনো বার্তা দেবার চেষ্টা করা হয়নি। বরং প্রতিটি পর্বে যে অজস্র ঘটনার ঠাঁস বুনোট রয়েছে সেখানে এমন কিছু অন্তর্নিহিত বার্তা রাখা হয়েছে যেগুলোকে দর্শক চাইলেই তাদের নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করে নিতে পারেন। ৪২০ নাটকটির ভবিষ্যত সম্পর্কে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, তার ইচ্ছে রয়েছে ৩৯ পর্ব পর্যন্ত এই নাটকটি চালিয়ে যাবার। তার মতে টেনে টেনে লম্বা বানানোর গল্প এটি নয়। অন্যদিকে নাটকের শুটিং সম্পর্কে বলতে গিয়ে ফারুকী বলেন ৪২০র কাহিনী বিন্যাসের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এ নাটকের শুটিং চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর। এ প্রসঙ্গে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই নাখালপাড়াবাসীকে যারা পুরো শুটিং এর সময়টাতেই আমার অসংখ্য অত্যাচার সহ্য করেছেন। আসলে ৪২০র শুটিং করতে যেয়ে আমি পুরো নাখালপাড়াটাকেই একটা স্টুডিও বানিয়ে ফেলেছিলাম। আমার যখন যে রাস্তা প্রয়োজন হয়েছে সেখানেই আমি রাস্তা বন্ধ করে শুটিং করেছি, মিছিলের দৃশ্য বা জনসভা করেছি। আর এগুলোই নাটকটির মাঝে অন্যরকম এক প্রাণের সঞ্চার করেছে। অন্যদিকে নাটকের স্ক্রিপ্ট এবং ডিরেকশন সম্পর্কে ফারুকী বলেন, অনেকেই কোনো কিছু খুঁজে না পেয়ে এই বলে আমার সমালোচনা করেন যে আমার স্ক্রিপ্ট যতোটা পাওয়ারফুল, ডিরেকশন কিংবা ক্যামেরাওয়ার্ক সে অর্থে পাওয়ারফুল নয়। কিন্তু এখানে আমি বিনীতভাবেই বলতে চাই যে, একটা নাটক যখন দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে তখন সেটা স্ক্রিপ্ট এবং ডিরেকশন দুটোর কম্বিনেশনের কারণেই জনপ্রিয়তা পায়। কেউ তো আর বলেন না যে এই তরকারিটা আলুর কারণে ভাল লেগেছে। বরং সকল উপকরণ এবং রান্না সবকিছু মিলিয়েই খাবার স্বাদের হয়। ৪২০র ক্ষেত্রেও এ কথাটিই প্রযোজ্য। মারজুক রাসেল (চরিত্র : ইমরান) এখানে আমি মাদকাসক্ত এক জামাই এর চরিত্রে অভিনয় করছি। অবশ্য এটাকে চরিত্র না বলে দুশ্চরিত্র বলাই ভাল, যে তার বৌকে ডিভোর্স করবার পরও বার বার বিয়ে করতে চায়। আমি নানারকম উছিলা নিয়ে অনেকটা হ্যালির ধূমকেতুর মতো তিশার কাছে আসি। নাটকে তিশার সাথে মোশাররফ এর বিয়ে হয়ে যাবার পরেও আমি তাকে ফিরে পেতে চাই। আমার চরিত্রটা আপাতত এ পর্যায়েই আছে এবং অভিজ্ঞতা আগের মতোই চমৎকার। মোশাররফ করিম (মন্টু) আসলে একটা মানুষের মাঝেই কিন্তু অনেক ধরণের বৈশিষ্ট্য থাকে। সে তার বাবার সাথে একরকম, বোনের সাথে একরকম আবার ভদ্রলোক হওয়া স্বত্ত্বেও সে হয়তো রিকশা দিয়ে যাবার সময় পাশে কোনো সুন্দর মেয়ে দেখে তার দিকে তাকায়। তো ৪২০ নাটকে আমার চরিত্রটাও কিন্তু একটা মানুষের মাঝে অনেক বৈশিষ্ট্য থাকার মতো। আমি ছিঁচকে চোর থেকে রাজনীতি আর ব্যবসা দিয়ে একসময় ফুলে ফেঁপে উঠি। আবার পছন্দের মেয়েকে জোড় করে বিয়ে করবার পর তার মন পেতে নামাজ-কালাম করতেও বাদ রাখি না। কাজেই একটা চরিত্রর মাঝেই ১৭টা চরিত্র করার মতো আনন্দ আমি পাচ্ছি ৪২০র কাজের মাধ্যমে। আর নাটকটি দেখে দর্শকরা যেমন মজা পাচ্ছেন তেমনি আমরাও অভিনয়ের সময় এরকম অজস্র মজার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সোহেল খান (বিশু) আসলে ৪২০তে আমার যে বিশু চরিত্রটি সেটা এমনই এক চরিত্র যে চরিত্রটি আমার মাঝেও অনেক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি চরিত্রটিকে নিজের মাঝে ধারণ করতে এবং জর্জ ভাই ও মোশাররফের সাথে একই সমান্তরালে ভাল অভিনয় করতে। অভিনয়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য আমি আমার দৃশ্যের বাইরে শুটিং এর পুরো সময়টা জুড়েই ইউনিটের সাথে থেকেছি। আমার আগের বা পরের সিকোয়েন্সে কি হচ্ছে তা জেনে পুরো নাটকের গল্পটাকে নিজের মাঝে নেয়ার চেষ্টা করেছি। তাছাড়া এই নাটকটি করতে যেয়ে আমি অনেক মাইর-গুতা খেলেও নাটকের মান এবং দর্শকদের আনন্দের কথা চিন্তা করে কাজ চালিয়ে গেছি। তাছাড়া এই সিরিয়ালটিকে ফারুকী ভাই তার অকান্ত শ্রম দিয়ে যেভাবে সন্তানের মতো মানুষ করেছেন তা আমাদেরকে আরো ভাল কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। নুসরাত ইমরোজ তিশা (নিশি)  এই নাটকে আমি প্রথমে মারজুকের স্ত্রীর ভূমিকায় কাজ করলেও পরবর্তীতে মোশাররফ আমাকে জোড় করে তুলে নিয়ে বিয়ে করে। সে আমাকে নকল পরিবার দেখিয়ে প্রতারণা করে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চায়। তবে সবকিছু জানবার পর আমি মোশাররফকেও ডিভোর্স দিতে চাই। এ নাটকে আর সবাই কিভাবে প্রতিযোগিতা করে ভাল করার চেষ্টা করেছে তা আমি জানিনা। তবে আমি কিন্তু দর্শকদেরকে আমার সেরাটাই উপহার দেয়ার চেষ্টা করেছি। তাছাড়া মোস্তফা সরয়ার ফারুকী যেভাবে একধরণের লাইভ অ্যাক্টিং এর মাধ্যমে কাজ বের করে আনেন সে বিষয়টি আমি খুব উপভোগ করি। উনি কখনোই আগে থেকে বলে দেন না যে এই দৃশ্যে তোমাকে কাঁদতেই হবে বা এখানে হাসতে হবে। বরং উনি অপো করেন একটা দৃশ্যে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী স্বতস্ফুর্তভাবে কোন আবেগটা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে সে অনুযায়ীই তিনি শটটা টেক করেন বা ফ্রেমিং করেন। ফলে ৪২০তে আমি অনেক স্বাধীনতা এবং আনন্দের জায়গা থেকেই কাজ করেছি। |