*Recent Media News will be uploaded in last Page.*
লাক্স-আনন্দধারা ফটোজেনিক তানজিকা অভিনয় শুরু করেছিলেন ৩ বছর আগে। এর মধ্যে তার ট্যালেন্ট আর সৌন্দর্য তাকে অনেক ব্যস্ত করে তুলেছে। তানজিকাকে পর্দায় দেখে দর্শক যতটা মুগ্ধ হন সামনাসামনি তার চেয়ে কম নন। যেখানে আমাদের অনেক অভিনেত্রীকে সামনাসামনি দেখে চেনা মুশকিল হয়ে যায়।
তানজিকা এর ব্যতিক্রম। দিন যত যাচ্ছে তানজিকা পর্দায় তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। আগে যেখানে মাসে পাঁচ থেকে সাত দিন ব্যস্ত থাকতেন এখন সেই ব্যস্ততা বিশ বাইশ দিনে ঠেকেছে, ইচ্ছে করলেই এই ব্যস্ততা বাড়িয়ে মাসের ত্রিশ দিনই করতে পারেন। কিন্তু তানজিকা আপাতত ইচ্ছে করেই ব্যস্ততা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক পর্যায়ে রেখেছেন। কিন্তু আগামী মাস থেকে সেটাও আর পারবেন না।
নতুন দুটো ধারাবাহিক এবং কয়েকটি এক ঘন্টার নটকের অগ্রিম শিডিউল দিয়ে রেখেছেন। সে শিডিউল মতো কাজ করলে তানজিকাকে শুক্রবারে কাজ করতে হবে। তাই বলে নিজেকে বড় তারকা ভাবতে চান না তিনি। আনন্দধারার ফটোজেনিক তানজিকা ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলার পক্ষে।
তাই যখন খুব একটা কাজ পাননি তখনো যেমন হতাশ হননি এখন বেশি বেশি কাজে ডাক পাচ্ছেন তখনো অস্থির হতে চান না। আগে নাটকের অফার মোটামুটি থাকলেও বেশি বেশি কাজ করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে তানজিকা বললেন, পড়াশুনা বড় একটা ফ্যাক্টর।
দেখা গেল যখন আমার নাটকের কোনো অফার এল ঠিক তখনই পড়াশুনার চাপ বেড়ে গেল। অথবা এমনও হয়েছে একই শিডিউলে কয়েকজন নাটক করতে চাইলেন। আমার অলওয়েজ কাজের সময় ক্লাস হয়। আমি একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রাজুয়েশন করছি।
** সাম্প্রতিক সময়ে কি কি কাজ করলেন?
তানজিকা : নতুন দুটো ধারাবাহিকের কাজ করলাম। একটার ডিরেক্টর ফারুক শ্রাবণ। এনটিভির কাজ। আরেকটার ডিরেক্টর শ্রাবণ। শ্রাবণ ভাইয়ের সিরিয়াল লিখেছেন এটিএম শামসুজ্জামান। নাম ‘ফজা মিয়া মজা পায়।’ হাসির নাটক। আর ফারুক শ্রাবণের সিরিয়ালের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমার দুটো ধারাবাহিক এখন চলছে চ্যানেল আইতে। কবি এবং নিষিদ্ধ বনভূমি। কবির পরিচালক শাওন ও নিষিদ্ধ বনভূমির পরিচালক আশরাফুর রহমান।
** আপনাদের সমসাময়িক শিল্পীদের অনেকেই কাজ করে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে, যাকে বলে রাতারাতি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। আপনার ক্ষেত্রে এমনটি হয়নি কেন?
তানজিকা : এটা সত্যি এতদিন হয়নি। কেন হয়নি সেটা আমার জানা নেই। আপনারা ভালো বলতে পারবেন। একটু দেরিতে হলেও এখন আমাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কি হচ্ছে না? আগের চেয়ে এখন বেশি বেশি নিউজ কভারেজ পাচ্ছি। ডাক পাচ্ছি। কদর মনে হয় একটু বেড়েছে। একটু একটু গুরুত্ব বাড়ছে বুঝতে পারছি।
** এতদিন পর এমন কদরের কারণ কি?
তানজিকা : সেটা আমার কাজ দেখে।
** কোন কাজটার পর এমন মূল্যায়ন?
তানজিকা : শাওনের কবির পর।
** বকুল ফুলের মালা নামের একটি ছবিতে রিয়াজের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন। তারপরের আর কোনো ছবিতে আপনাকে দেখা যায়নি কেন? প্রথম ছবির ব্যর্থতাই কি এর কারণ?
তানজিকা : ছবির ব্যর্থতা। যে যার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করবেন। কারণ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ছোট পর্দায়। আমি আমার লোকজনের কাছে আমার আউটফিট সম্পর্কে পজেটিভ শুনেছি। আর ইচ্ছে করলেই আমি আরও ছবি করতে পারতাম। আমার অনেক ছবির অফার ছিল। যেহেতু আমি নাটকেই কেরিয়ার গড়তে চাই। তাই হুট করে সিনেমায় ব্যস্ত হতে চাইনি।
** তাহলে সিনেমাকে গুড বাই?
তানজিকা : না, সিদ্ধান্ত সে রকম নয়। অবশ্যই ফিল্ম করব। ভালো ভালো কিছু ছবি করার ইচ্ছে আছে। সেটা যে কমার্শিয়াল ধারায় হতে হবে তা কিন্তু নয়। এফআই মানিক, জাকির হোসেন রাজুসহ অনেক পরিচালকের অফার ছিল, কিন্তু করিনি। আমি আসলে নাটকেই থাকতে চাই। এখন পর্যন্ত ব্যাটে বলে সবকিছু মিলছে না। আবার ব্যাটে বলে মিলে গেলে ফিল্ম করতেও পারি।
** এমনও তো হতে পারে, এখন আপনাকে সবাই চাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আপনি ফিল্ম করতে চাইরেন, কিন্তু কেউ আপনাকে চাইলেন না।
তানজিকা : এটা হবে না। কারণ আমার দিন যত যাবে আমি তত ভালো করার চেষ্টা করব। এখন দুটোর অফার এসেছে, তখন দেখা গেল চারটা ছবির অফার আসবে।
** তার মানে আপনি ধরেই নিয়েছেন আপনার বয়স বাড়বে না। এই গ্ল্যামার সব সময় একই থাকবে?
তানজিকা : (হাসতে হাসতে) আমার যে বয়স, ভবিষ্যতে আরো গ্ল্যঅমার যোগ হবে, যাবে না।
** কনফিডেন্ট।
তানজিকা : হানড্রেড পারসেন্ট।
** যারা টিনএজ চরিত্রে নিতে চাইবেন, তারা পাঁচ বছর পর তানজিকাকে তেমন করে কি ভাববেন?
তানজিকা : পাঁচ বছর পর তো আমি ফিল্ম করব না। এখন কিছু দিন ফিল্মের ব্যাপারে কিছু ভাবতে চাই না।
** সেটা কতদিন?
তানজিকা : আসলে এটার কোনো নির্ধারিত সময় নেই। দেখা গেল কালকেই ভালো কোনো ছবির অফার পেলাম ভালো লাগলে করেও ফেলতে পারি। টোটালি ডিফেন্ড করছে আমার মর্জি-মেজাজের ওপর।
** আসল ডেস্টিনেশন কোনটি?
তানজিকা : টিভি মিডিয়ায় শক্ত একটা অবস্থান।
** একই সঙ্গে দুই মিডিয়ায় অবস্থান গড়ে কি সহজ?
তানজিকা : এজন্যই তো ফিল্ম নিয়ে বেশি ভাবি না। টিভিতে অবস্থান রেখেই কিছু ভালো ভালো ফিল্ম করতে চাই। এমন কোনো ছবি করব না, যাতে আমার টিভি ইমেজের ক্ষতি হয়।
** কমার্শিয়াল ছবিতে তাহলে তানজিকাকে দেখা যাবে না।
তানজিকা : কমার্শিয়াল কি ভালো ছবি হয় না, হচ্ছে। এখন আমাকে নিয়ে পরিচারক কাজ করতে চাইবেন; তার প্রতি আমার কিছু কন্ডিশন থাকবে। সে রকম কন্ডিশন নিয়েই যদি কাজ করতে পারেন, তাহলেই আমাকে নেবেন।
** কন্ডিশন মানতে গিয়ে যদি কমার্শিয়াল ছবির প্রাণ নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তো আর চবি হবে না। কারণ ছবিতে গেটআপ, মেকআপ, ড্রেসআপ সবকিছুই একটু ভিন্ন রকম হয়। আপনার ‘বকুল ফুলের মালা’ ছবিতে কিন্তু এসবের কিছুই ছিল না।
তানজিকা : এটা ডিরেক্টর বুঝে নেবেন। তারটা তার কাছে, আমারটা আমার। এসবের বোঝাবুঝি হয় না বলেই ছবি করা হচ্ছে না।
** নাটকেই আপনি কেরিয়ার চান, প্রতিষ্ঠা চান। সে ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে আপনি কতটুকু এগিয়েছেন বরে মনে করছেন?
তানজিকা : আগের তুলনায় এখন বেশি ডাক পাচ্ছি। এখন ইচ্ছে করলেই আমি আমার ব্যস্ততা বাড়াতে পারি। বলতে পারেন এটাই আমার কেরিয়ারের অর্জন।
** ইচ্ছে করলেই যে ব্যস্ততা বাড়াতে পারছেন, সেই ব্যস্ততায় কি মনের মতো কাজ যোগ করতে পারছেন?
তানজিকা : করার জন্য কাজ আমি করি না। তাহের শিপনের একটি কাজ করে এলাম দুবাই থেকে। ভালো আছি ভালো থেকো নাটকে আমার চরিত্র একটি ডেমকেয়ার মেয়ের। চমৎকার একটি চরিত্র। আবার ফজা মিয়া মজা পায় নাটকে আমি এটিএম শামসুজ্জামানের চার নম্বর স্ত্রী। প্রথম তিন স্ত্রি ডলি জহুর, শিরিন বকুল ও ফোর সরকার। এ কাজটাও অনেক মজার।
** নাটকে এমন কোনো নায়ক আছেন, যার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছেটা এখনো পূরণ হয়নি।
তানজিকা : অনেকেই আছেন। তবে এ মুহূর্তের মাহফুজ আহমেদের নামটা আসছে।
** কেরিয়ারের এই মুহূর্তে বিশেষ বন্ধু কি এসেছেন?
তানজিকা : না, তেমন কোনো বন্ধু এখনো অর্জন করতে পারিনি। গুজব অনেক ছাপা হয়। সত্যিকার নয় কিছুই।
** আপনার কি মনে হয় ব্যক্তিগত জীবনের ইমোশন কাজের ক্ষেত্রে জরুরি।
তানজিকা : কাজের ক্ষেত্রে প্রেম কিংবা একান্ত যোগাযোগ রাখতে হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না।
** মানে একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং, রাতের বেলায় টুকটাক করে কথা বলা।
তানজিকা : রাতের বেলা কেন, সেটা হলে তো দিনের বেলাই কথা বলা যায়।
** রাতের বেলা বিলের চিন্তাটা কম থাকে।
তানজিকা : কথা বলতে চাইলে বিলের চিন্তা থাকে না।
** সে রকম কথা বলার কেউ কি আছে?
তানজিকা : না, হয়ে গেলে আমার সঙ্গে সঙ্গে সবাই জেনে যাবেন। কারণ টাকা, ধোয়া আর রোমান্স কোনো কৌটায় আটকে রাখা যায় না। ফুড়ে বেরিয়ে যায় এক সময়।







Reply With Quote
























